মার্কিন জাহাজে অতিরিক্ত বন্দর ফি আরোপের ঘোষণা দিয়েছে চীন। দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৪ অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত, পতাকাবাহী অথবা মার্কিন নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন বা পরিচালিত জাহাজগুলোর প্রতি ভ্রমণে অতিরিক্ত ফি দিতে হবে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন বন্দর ফিয়ের পাল্টা ব্যবস্থা বলে জানিয়েছে চীনা মন্ত্রণালয়। খবর রয়টার্স।
একই তারিখ থেকে চীনে নির্মিত বা চীনা প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন জাহাজগুলো যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় অতিরিক্ত ফি দিতে হবে। বিশ্লেষকদের হিসাবে, ১০ হাজার কনটেইনার বহনক্ষম একটি চীনা জাহাজের ক্ষেত্রে ফিয়ের পরিমাণ ১০ লাখ ডলার ছাড়াতে পারে। ২০২৮ সাল পর্যন্ত এ হার প্রতি বছর বাড়তে থাকবে।
চীনের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রগামী প্রতিটি চীনা মালিকানাধীন বা পরিচালিত জাহাজকে প্রতি ভ্রমণে প্রতি নেট টনে ৮০ ডলার ফি দিতে হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও চীনসংযুক্ত জাহাজে নতুন বন্দর ফি বসাচ্ছে। ওয়াশিংটনের এ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো নিজ দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্প পুনরুজ্জীবিত করা এবং চীনের বাণিজ্যিক ও নৌক্ষমতা সীমিত রাখা।
চীনের পরিবহন মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘এ পদক্ষেপ স্পষ্টত বৈষম্যমূলক ও এটি চীনের নৌ-পরিবহন খাতের বৈধ স্বার্থের ক্ষতি করছে। একই সঙ্গে এটি বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলার স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে গুরুতরভাবে বিপন্ন করছে।’
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের এ পাল্টা ফি যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় তুলনামূলক কম প্রভাব ফেলবে। কারণ চীনের জাহাজবহর অনেক বড়। সামরিক ও বাণিজ্যিক উভয় খাতে চীন বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ জাহাজ নির্মাতা দেশ। গত বছর দেশটির জাহাজ কারখানাগুলো এক হাজারের বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ তৈরি করেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র তৈরি করেছে ১০টিরও কম।
চীনের বন্দরগুলোয় ১৪ অক্টোবর থেকে মার্কিন জাহাজের ক্ষেত্রে প্রতি নেট টনে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০০ ইউয়ান (৫৬ ডলার ১৩ সেন্ট)। এটি ২০২৬ সালের ১৭ এপ্রিল থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ৬৪০ ইউয়ান (৮৯ ডলার ৮১ সেন্ট)। এরপর ২০২৭ সালের ১৭ এপ্রিল থেকে হবে ৮৮০ ইউয়ান (১২৩ ডলার ৫২ সেন্ট) ও ২০২৮ সালের ১৭ এপ্রিল থেকে ১ হাজার ১২০ ইউয়ান (১৫৭ ডলার ১৬ সেন্ট)।
গত আগস্টে দুই দেশের মধ্যে ৯০ দিনের জন্য শুল্কবিরতি বা ট্রেড ট্রুস ঘোষণা করা হয়েছিল, যা ৯ নভেম্বর শেষ হবে। তবে সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা আবার বাড়তে শুরু করেছে। চলতি বছর শুল্ক পাল্টাপাল্টি আরোপে চীনের কৃষি ও জ্বালানি আমদানি কমে গেছে।
উল্লেখ্য, আগামী মাসের শেষে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপিইসি) সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনা নেতা শি জিনপিংয়ের বৈঠক হওয়ার কথা।